• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
  • English Version
Headline
দোহারে খাজা ডাইন এন্ড মা ক্যাটারিং এর শুভ উদ্বোধন স্রোতস্বিনী দোহারের ইছামতী আজ বিলুপ্তির পথে শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে তামিলনাড়ু সিনেমায় অভিনয় করতে চায় দোহারের বিল্লাল মাহমুদ দোহারে ক্ষুদ্রঋণের নামে অফিস সহকারীর অনিয়ম,বঞ্চিত উদ্যোক্তারা বুদ্ধির খেলায় উৎসবের আমেজ – বাহ্রা বাজারে সফল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জে হত্যা মামলার আসামির মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও বিক্ষোভে গ্রামবাসী বারুয়াখালীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে দোয়া মাহফিল জুনে জ্বালানিতে নতুন ধাক্কা – বাড়ল পেট্রোল-অকটেনের দাম ঈদের দিন মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ – চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

পানিতে পচছে ধান – শ্রমিক সংকটে বিপর্যস্ত কৃষক

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
পানিতে পচছে ধান - শ্রমিক সংকটে বিপর্যস্ত কৃষক
পানিতে পচছে ধান - শ্রমিক সংকটে বিপর্যস্ত কৃষক

টানা বৃষ্টির কারণে জগন্নাথপুরের হাওরগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। যেসব ধান কেটে রাখা হয়েছিল, সেগুলোও ভেজা অবস্থায় থাকায় চারা গজাতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব কারণে কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

গত কয়েক দিনে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার, মইয়ার ও পিংলার হাওরসহ ছোট-বড় প্রায় ১৫টি হাওরের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে ভেজা ধানে অঙ্কুর গজাচ্ছে। অনেক জায়গায় ধান পচে যাচ্ছে।

ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকায় অনেক কৃষক চাইলেও সময়মতো ফসল তুলতে পারেননি। উঁচু জমির ধান কাটতে কৃষকের পরিবার ও শ্রমিকরা বাড়তি মজুরিতে কাজ করছেন। তবে জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। টানা বৃষ্টি, আগাম বন্যার আশঙ্কা এবং ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। হাওরের পানি বের করার ব্যবস্থা না থাকাকে এই সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। অনেকের মতে, ফসল রক্ষা বাঁধ এখন উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নলুয়ার হাওর এলাকার এক কৃষক জানান, তিনি ২৫ কেদার জমিতে চাষ করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ৩ কেদার জমির ধান তুলতে পেরেছেন। বৃষ্টির পানিতে বাকি সব তলিয়ে গেছে। অন্য এক কৃষক বলেন, তিনি ১৬ কেদার মধ্যে মাত্র ১ কেদার ধান তুলতে পেরেছেন। আরেক কৃষক জানান, ৬ কেদার জমির মধ্যে দেড় কেদার ধান কাটা হয়েছে, বাকিটা পানির নিচে চলে গেছে। শ্রমিকের অভাবে অনেকেই ফসল তুলতে পারেননি।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা ঋণ করে চাষ করেছিলেন এবং বোরো ফসলের ওপরই তাদের পরিবার নির্ভরশীল। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা জানান, শুরুতে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকট ছিল, আর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের জমি ডুবে গেছে। তাদের ধারণা, প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক বলেন, পানি বের করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার উপকারের বদলে ক্ষতি করেছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নলুয়ার হাওরের প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সমস্যায় আছেন। টানা বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও এখনই চূড়ান্তভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকার মাধ্যমে ধান তোলার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনি হাওর এলাকায় অবস্থান করছেন এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories