• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
  • English Version
Headline
দোহারে খাজা ডাইন এন্ড মা ক্যাটারিং এর শুভ উদ্বোধন স্রোতস্বিনী দোহারের ইছামতী আজ বিলুপ্তির পথে শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে তামিলনাড়ু সিনেমায় অভিনয় করতে চায় দোহারের বিল্লাল মাহমুদ দোহারে ক্ষুদ্রঋণের নামে অফিস সহকারীর অনিয়ম,বঞ্চিত উদ্যোক্তারা বুদ্ধির খেলায় উৎসবের আমেজ – বাহ্রা বাজারে সফল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জে হত্যা মামলার আসামির মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও বিক্ষোভে গ্রামবাসী বারুয়াখালীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে দোয়া মাহফিল জুনে জ্বালানিতে নতুন ধাক্কা – বাড়ল পেট্রোল-অকটেনের দাম ঈদের দিন মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ – চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

সংগ্রাম ও আদর্শের এক অনন্য ইতিহাস – মাওলানা ভাসানী

Reporter Name / ০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
সংগ্রাম ও আদর্শের এক অনন্য ইতিহাস - মাওলানা ভাসানী
সংগ্রাম ও আদর্শের এক অনন্য ইতিহাস - মাওলানা ভাসানী

বাংলার আকাশ-বাতাস, নদী-মাটি আর প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যে নামটি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তিনি হলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তিনি ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের দৃঢ় কণ্ঠস্বর। আজও তার জীবন ও আদর্শ গণমানুষের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

মাওলানা ভাসানীর জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে। পিতা হাজী শরাফত আলী খান এবং মাতা মোসাম্মৎ বেগম। শৈশবেই তিনি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন; মাত্র ছয় বছর বয়সে পিতাকে এবং বারো বছর বয়সে মাতাকে হারিয়ে তিনি এতিম হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়।

প্রাথমিক পড়াশোনার পর তিনি ভারতের দেওবন্দের দারুল উলুমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে মাওলানা মাহমুদুল হাসান-এর সংস্পর্শে এসে তার রাজনৈতিক ও দেশপ্রেমিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন।

আসামে কৃষক আন্দোলনের সময় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে (ভাসান চর) অবস্থান ও আন্দোলন পরিচালনার কারণে তিনি ‘ভাসানী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়, বরং জনসাধারণের দেওয়া পরিচিতি।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আসামে ‘লাইন প্রথা’র বিরুদ্ধে তার নেতৃত্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে তার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ, যার তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি তার বিখ্যাত “আসসালামু আলাইকুম” উচ্চারণ রাজনৈতিক বিচ্ছেদের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে অবস্থান করে প্রবাসী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব। পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম অমর হয়ে আছে।

সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত মাওলানা ভাসানী ছিলেন লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরিহিত এক সাধারণ মানুষের মতো নেতা, যিনি জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন গভীরভাবে। এই ঘনিষ্ঠতা ও সংগ্রামী চেতনার কারণেই তিনি “মজলুম জননেতা” হিসেবে পরিচিতি পান।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে সমাহিত করা হয়। তার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মাওলানা ভাসানী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন এক আদর্শ, এক প্রতিবাদের প্রতীক। তার জীবন ও দর্শন আজও সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার আন্দোলনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories